ফসলের মাঠে উঁকি দিচ্ছে নতুন বীজের প্রস্ফুটিত চারা। তাতে শিশির বিন্দু ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃদু শীতলতা। ভোরে ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশার স্নিগ্ধতার মাখামাখিতে এখন এক অন্য রকম প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজ করছে রামগঞ্জ উপজেলাতে। রবিবার (১১ অক্টোবর) আশ্বিন ১৪৩৩ খ্রিঃ ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা পড়তে দেখা গেছে। কুয়াশার ছাদরে ঢেকে গেছে গ্রামাঞ্চলের পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।
ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে মিষ্টি রোদ আর সবুজ ঘাসের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে প্রকৃতি যেন ধারণ করেছে নতুন রূপ। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ ঘাসের ডগায় মুক্তোর মতো ঝলমল করছে অসংখ্য শিশিরকণা। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যও মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কুয়াশামাখা মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ভোরে ফজরের নামাজের মুসল্লি, হাঁটতে বের হওয়া মানুষ ও কাজে বের হওয়া শ্রমিকরা। এতেই বোঝা যায়, রামগঞ্জ বিভিন্ন উপজেলায় উঁকি দিয়েছে শীতের আগমনী বার্তা।
সকালে গ্রামীণ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে চারপাশে এক ভিন্ন রকম প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লি, হাঁটতে বের হওয়া পথচারী ও কাজে যাওয়া শ্রমিকরা কুয়াশামাখা মনোরম পরিবেশ উপভোগ করেছেন। তবে কুয়াশার কারণে অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।
দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠজুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সাদা কুয়াশার চাদর। বিকালের নরম রোদ আর কুয়াশা মিলেমিশে মাঠে তৈরি হয় এক নান্দনিক আবহ। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা জানান দিতে শুরু করেছে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদে। বিকাল গড়াতেই ফসলের মাঠে নামছে হালকা কুয়াশার আবরণ। সন্ধ্যা নামার আগেই মাঠঘাট ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে।
গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা হিমেল বাতাসের সঙ্গে নামছে কুয়াশা। ভোরে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও দিনের বেলায় এখনো তুলনামূলক উষ্ণতা রয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে শুরু করছে শীতের অনুভূতি। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে গ্রামাঞ্চলে শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ভোর হলেই এখন কুয়াশার দেখা মিলছে। ফসলের মাঠে নতুন বীজ থেকে গজিয়ে ওঠা চারাগাছের পাতায় জমছে শিশির। পাশাপাশি কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন শীতকালীন আগাম চাষে। মাঠজুড়ে চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন ও বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি ও ধান রোপণের কাজ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোর ও সন্ধ্যায় কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। তবে আগাম এই কুয়াশা ফসলের কোনো ক্ষতি করবে কিনা, তা নিয়ে অনেকেই কিছুটা সচেতন দৃষ্টি রাখছেন। সব মিলিয়ে হেমন্তের শুরুতেই এমন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ জানান দিচ্ছে—শীত খুব বেশি দূরে নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের কুয়াশা, শিশির ও হিমেল বাতাস প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও ভোর ও সন্ধ্যার আবহাওয়ায় ইতোমধ্যে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “হঠাৎ করেই সকালে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে গেছে। সবুজ ঘাসে শিশিরবিন্দু দেখে বেশ ভালো লেগেছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন জানান দিচ্ছে, শীত হয়তো আর বেশি দূরে নয়।”
রামগঞ্জ প্রেসক্লারের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আবু তাহের বলেন, প্রকৃতির এই রূপান্তরে গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। কুয়াশায় ঢাকা ভোর, শিশিরভেজা ঘাস, হিমেল বাতাস আর মিষ্টি রোদের মায়াবী পরিবেশে শেরপুরের জনপদে এখন থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের প্রকৃতিতে শীতের এই মৃদু উপস্থিতি একদিকে যেমন মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি জানান দিচ্ছে—শীতের দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা ও শিশিরের উপস্থিতি শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি পরিবারের সদস্যদের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।”
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে হাসপাতালে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক শিশু জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ও বৃদ্ধাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









