ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বাল্যবিয়ে রোধ ও কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথা থাকলেও শহরের মূল সড়কে নামেনি কোনো শোভাযাত্রা। উপজেলা চত্বরের ভেতরেই দায়সারা র্যালি আর হলরুমে অল্প কয়েকজন নিয়ে আলোচনা সভা করেই শেষ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ দিবসটি পালন করা হয়।
তবে শহরের প্রধান সড়কে র্যালি না করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলা চত্বরেই কর্মসূচি শেষ করায় প্রশ্ন উঠেছে দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, কন্যাশিশু দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু শহরের মূল রাস্তায় না গিয়ে উপজেলা চত্বরের ফাঁকা রাস্তায় র্যালি করা হয়। সচেতনতা তৈরির চেয়ে এটি নিছক ‘কাগজে-কলমে দায়িত্ব পালন’ বলে দাবি করেন তারা।
আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকলেও আয়োজনের এমন পরিধি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া।
তিনি জানান, সরকার বিভিন্ন দিবস পালনের নির্দেশ দিলে এই উপজেলায় তা শুধু উপজেলা চত্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে। সরকারের উদ্দেশ্য থাকে বার্তাটি জনগণের সামনে তুলে ধরা, কিন্তু এখানে তা কখনো হয় না।
কর্মসূচি কেবল উপজেলা চত্বরে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন বলেন, “দিবসটি সরকারি নির্দেশনা অনুসারেই পালিত হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আমি জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। পীরগঞ্জে র্যালি কোথা থেকে কোথায় গেছে তা আমার জানা নেই; বিষয়টি ইউএনও ভালো বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে দুই দফা তিনি ফোন কেটে দেন।
পরে তৃতীয়বার সংযোগ পেলে তিনি বলেন, “আমি একটি জুম মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সাথে কথা বলব।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









