পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন যাত্রীর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশে ফেরার কথা থাকলেও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তা সম্ভব হয়নি। বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় তারা বর্তমানে সৌদিতে আটকা পড়েছেন। মক্কার হোটেলে থাকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র আবাসনসংকট। থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ইতোমধ্যে কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন।
আটকে পড়া এই দলটিতে নারী-পুরুষ ও শিশুর পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিও রয়েছেন। কবে নাগাদ তারা দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৮২টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার ৭৪ জন যাত্রী চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এই ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩২টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। এ ছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ঈশ্বরদীর মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, ওমরাহ শেষে মঙ্গলবার ৫০ জনের দেশে ফেরার কথা থাকলেও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তারা আটকে পড়েন। হোটেলের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা পাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার পরিবার নিয়ে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি, আমার মা, স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ করতে এসেছি। ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই বিমানবন্দরে হামলার কারণে পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে গেছে। থাকা-খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আমরা মহাবিপদে পড়েছি।”
আরেক ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসেন জানান, দলের ৫০ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নারী-পুরুষ রয়েছেন, যাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, “সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









