রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ!

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ!

রাজশাহী মহানগরীর দড়িখরবোনা মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ট্রাফিক সদস্য জহুরুল ইসলাম। তীব্র রৌদে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাঁশির ফুঁ আর হাতের ইশারায় তিনি গাড়ি চলাচলের নির্দেশনা প্রদান করছিলেন। নগরীর রেলগেট হতে কাদিরগঞ্জ এবং উপশহর থেকে মহিলা কলেজগামী শতাধিক গাড়ি হাতের ইশারায় তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। 

রৌদে একটানা দাড়িয়ে থাকতে তার হিমশিম অবস্থা। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“এটা আমাদের প্রতিদিনের ডিউটি। হাত দিয়েই গাড়ি গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। একটু সুযোগ পেলেই কেউ আর ট্রাফিক আইন মানতে চায় না।” 

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সিগন্যাল বাতি থাকলে সুবিধা পেতেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘অবশ্যই সুবিধা হতো। আমরা রৌদ বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করি। যদি সড়কে সিগন্যাল বাতি থাকতো তাহলে আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না।”

শুধু দড়িখরবোন মোড়েই নয়, নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে এভাবেই হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে ট্রাফিক সদস্যরা। অথচ ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত নগরীর ২১টি পয়েন্টে বসানো হয়েছিল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। সে সময় এতে নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি। সময়ের পরিক্রমায় সিগন্যাল বাতিগুলোর পরিচর্যা না করায় এবং পরিকল্পনাহীন সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো অকেজো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাসিক কর্তৃপক্ষ।

সেই সময়ে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়, ভেড়িপাড়া মোড়, বর্ণালীর মোড়, কাদিরগঞ্জ, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর, হযরত শাহমখদুম (রহ) দরগা গেট, সিঅ্যান্ডবি মোড়, সাগরপাড়া বটতলা মোড়ে বিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। যেগুলো এখন একেবারেই অকেজো।

যে কারণে নগরীর ব্যস্ততম এসব এলাকার রাস্তা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাফিক বিভাগ। স্কুল-কলেজ এবং অফিস ছুটির সমযে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায় ট্রাফিক ব্যবস্থা। সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

অন্যদিকে, ট্রাফিক আইনের বিষয়ে অজ্ঞতা থাকায় যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করায় যানজট সমস্যা বাড়ছে। এছাড়াও নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিচ্ছন্ন নগরী রাজশাহী তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। যে কারণে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।

নগরীর সাহেববাজার মোড়ে দাঁড়ানো পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সিগনাল লাইট থাকলে আমরা সহজেই রাস্তা পার হতাম। এখন পুলিশ কখন হাত উঠাচ্ছে, কখন নামাচ্ছে সেটা দেখে রাস্তা পার হতে হয়। এতে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হঠাৎ করে গাড়ি বেরিয়ে এলে দুর্ঘটনার ভয়ও থাকে।”
আরেক পথচারী শাহিনুর বেগম, যিনি সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে এসেছিলেন, তিনি বলেন,“আমাদের ছোট বাচ্চারা সিগনাল মেনে রাস্তা পার হওয়ার নিয়ম শিখুক এটাই চাই। কিন্তু এখন তো তারা শুধু পুলিশ কাকুর হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে নিয়ম শিখছে না, বরং ভয় পাচ্ছে।”


সড়কে সিগন্যাল বাতি না থাকায় বিভ্রান্ত হচ্ছে চালকরা। উপশহর এলাকার রিকশাচালক মতিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“অনেক সময় গাড়িচালকরা পুলিশের ইশারা না মেনে হুট করে চলে যায়। এতে আমাদের ছোট যানবাহন নিয়ে বিপদে পড়তে হয়। সিগনাল লাইট থাকলে সবাই মেনে চলতে বাধ্য হতো।”

একজন প্রাইভেটকার চালক বলেন,“হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে। সিগনাল লাইট থাকলে গাড়িচালকরা আগে থেকে বুঝে নিতে পারতেন, কখন দাঁড়াতে হবে আর কখন চলতে হবে।”


সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সিগন্যাল বাতি প্রয়োজন জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি রাজশাহীতে আসার পরে নগরীর কোথাও সচল সিগন্যাল বাতি দেখতে পায়নি। সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সিগন্যাল বাতি অতি জরুরী। যেগুলো বাতি আছে সেগুলো সংস্কার এবং নতুন করে সড়কে সিগন্যাল বাতি বসাতে আমরা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে মৌখিক এবং চিঠি দিয়েছি। সড়কে সিগন্যাল বাতি থাকলে সবার পথচারী, চালক এবং ট্রাফিক পুলিশের জন্যও অনেক ভালো হবে।’


রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “রাজশাহী নগরীর উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে সব কাজ করা হচ্ছে। আমার এই বিষয় (সিগন্যাল বাতি) সম্পর্কে জানা ছিল না। আপনি বললেন আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। আমি এই ডির্পাটমেন্টে খোঁজ নিচ্ছি। সিগন্যাল বাতিগুলো যাতে সচল করা হয়।”

নগরবাসীর মনে করেন, শুধু সাময়িকভাবে মেরামত নয়, সিগন্যাল বাতি গুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই বসবাসযোগ্য আধুনিক শহরে রুপান্তরিত হবে রাজশাহী।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.