সিলেট নগরের সুবিদবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ করেছেন কানাডাপ্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরী। তাদের দাবি, জাল দলিলের মাধ্যমে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের ভবনের ভাড়া বাবদ তাদের প্রাপ্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে এহসানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার সূত্রে সুবিদবাজারের পৈতৃক সম্পত্তির মালিক হন তারা। পরে নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংকের ভবনের অর্ধেক এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের জমির অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়।
তার অভিযোগ, ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরী ও তাদের সহযোগীরা সম্পত্তিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। প্রবাসে থাকার সুযোগে তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করা হয়। ওই দলিল ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের ভাড়ার অংশ হিসেবে তাদের প্রাপ্য আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাদের নিযুক্ত আমমোক্তার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন এহসানুল।
তিনি জানান, কথিত জালিয়াতির ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন তারা। তার দাবি, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) সিলেটের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ ও দলিলের স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এহসানুল আরও বলেন, ২২ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সাধারণ আমমোক্তারনামা প্রত্যাহারের ঘোষণা সম্পাদন করেছেন তারা। এ ছাড়া তার অভিযোগ, ছোট ভাই পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পৈতৃক বাড়ি দখলে রেখেছেন। ২০২৫ সালে দেশে এসে সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের কথা বললেও বণ্টননামা মানা হচ্ছে না।
এহসানুলের ভাষ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









