জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পর ইতালির মিলান শহরে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইতালির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরোধমূলক আটক রাখার সময় বাড়ানো, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার ও রোববার মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী একদল তরুণ রাস্তায় ময়লার পাত্রে আগুন দেয়, দোকানপাটে লুটপাট চালায় এবং বিভিন্ন ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। শহরের বিখ্যাত ডুওমো এলাকার আশপাশেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রথম দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও একপর্যায়ে কিছু বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

সহিংসতার আশঙ্কায় মিলানের ফ্যাশন এলাকার অনেক বিলাসবহুল দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। চ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ড তাদের দোকানের কাচের প্রদর্শনী থেকে পণ্য সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ডেকাথলন, আর্কটেরিক্স ও ভোডাফোনের কিছু দোকানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি বলেন, রাষ্ট্রের ওপর এসব হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে মেলোনির সরকার কঠোর নিরাপত্তা নীতির দিকে এগোচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণ ইতালিতে ট্রাকচালকদের সড়ক অবরোধের পর সড়ক অবরোধকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে, ‘১৭ অক্টোবর’ নামের একটি নতুন আন্দোলন শনিবার থেকে মিলানসহ ইতালির বিভিন্ন শহরে নিয়মিত বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, সরকার নিরাপত্তার বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁদের মতে, শিক্ষা, আবাসন ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
মিলানের পাশাপাশি বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বার্গামো ও তুরিনেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। তুরিনে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইতালির এই অস্থিরতার সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভেরও মিল রয়েছে। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









