যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস এবং নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কাও দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও দেশটির ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, তেহরান মনে করছে, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প আবারও হামলার পথ বেছে নিতে পারেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়।
এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পকে রাজনৈতিক বিজয় দিতে চায় না ইরানের নেতৃত্ব।’
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে ইরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে। এতে দেশটির তেল রপ্তানি কমেছে এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চায়। তেহরান অবশ্য দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, পরিদর্শকদের কাজে বাধা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।
ইরান বলছে, পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে তাদের সাত দিনের পরিকল্পনার শর্ত পূরণ করতে হবে। কাতারের মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে, তেল রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিল করতে, জব্দ করা সম্পদ ছাড়তে এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখনো বহাল রয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন।
তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে ইরানের অর্থনীতিও চাপে পড়ছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাইয়ে মার্কিন নৌ অবরোধ পুনর্বহালের পর ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরও প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ইরানের মাইন আঘাতে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কখন জাহাজ দুটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে সোমবার রাতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে ইরান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









