রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের একটি ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে তিনটি পরিবার। ড্রেন বন্ধের প্রতিবাদ ও বিরোধের জেরে হামলা-মারধরের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ড্রেনটি তাঁদের পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০১০ সালের দিকে ছয় ভাইবোনের মধ্যে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন করা হয়। তবে সম্পত্তি বণ্টনের পরও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ড্রেনটি সম্প্রতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে তিনটি পরিবারের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সমস্যা সমাধানে প্রথমে পারিবারিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সামাজিকভাবে এবং রাঙামাটি পৌরসভার মাধ্যমেও সমাধানের চেষ্টা করেন তাঁরা। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এত চেষ্টা করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। উল্টো বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী জাহেদ আবেদীন অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে জয়নাব বেগমের দুই মেয়ের স্বামী, ছোট মেয়ে ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তিনি নিজে, তাঁর এক বোন এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী আহত হন। তাঁদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মারধরের ঘটনায় মামলা করতে গেলে ‘ওপরের চাপের’ কথা বলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হবে।
এদিকে, ড্রেন বন্ধ করা ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জয়নাব বেগম এবং তাঁর ছোট মেয়ে নাজমিন আক্তার প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রেন বন্ধের বিরোধ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে হুমকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি ড্রেন বন্ধের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া বিরোধ এখন হামলা-মারধর, নিরাপত্তাহীনতা ও আইনি প্রতিকারের প্রশ্নে গড়িয়েছে। তিনটি পরিবারের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ড্রেনটির ব্যবহারসংক্রান্ত বিরোধ এবং হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। ভুক্তভোগীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









