মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী উচ্চারণ, টঙ্ক বিদ্রোহের সংগঠকসুলভ দৃঢ়তা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিপরীক্ষা সব মিলিয়ে এক অবিচল সংগ্রামী জীবনের নাম কমরেড অনিমা সিংহ। সেই অগ্নিকন্যার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পালিত হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ ও বিপ্লবী অঙ্গীকারে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাল পতাকার আবহে স্মরণ করা হয় এই নির্ভীক নারী বিপ্লবীকে। আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, দুর্গাপুর উপজেলা কমিটি।
উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মালেক সরকারের সভাপতিত্বে এবং দুর্গাপুর উপজেলা ও নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কমরেড মণি সিংহ ও অনিমা সিংহের একমাত্র সন্তান ডা. দিবালোক সিংহ। তিনি স্মৃতিচারণে তুলে ধরেন এক সাহসী, মানবিক ও আদর্শনিষ্ঠ জীবনের অনন্য অধ্যায়।
বক্তারা বলেন, ছাত্রজীবনেই অনিমা সিংহ মার্কসবাদের আদর্শে দীক্ষিত হন। শোষণহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং কঠোর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে পার্টির একজন আস্থাভাজন নেত্রীতে পরিণত হন। টঙ্ক আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা শুধু নারীর অংশগ্রহণের দৃষ্টান্ত নয়, ছিল সংগ্রামের কৌশলগত শক্তি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, উদীচীর সভাপতি শামছুল আলম খান, ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি মো. আজিম উদ্দিন, আদিবাসী নেতা অবনী কান্ত হাজংসহ যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—অনিমা সিংহ কেবল রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি ছিলেন কৃষক-শ্রমিকের ঘরের মানুষ, গ্রামবাংলার আপনজন। কৃষাণ-কৃষাণীর দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখে, তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করাই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক-শ্রমিক, নারী সংগঠক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে আদর্শ হস্তান্তরের মঞ্চে। বক্তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
কমরেড অনিমা সিংহের সংগ্রামী জীবন আমাদের শিখিয়ে যায়, অধিকার আদায়ের লড়াই কখনও থেমে থাকে না; তা চলমান, অবিরাম।
দুর্গাপুরের আকাশে সন্ধ্যার আলো নেমে এলে মিলনায়তনে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই উচ্চারণ, সংগ্রাম চলবেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









