দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মগড়া নদীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে নেত্রকোণার প্রথম দৃষ্টিনন্দন আর্চ আরসিসি সেতু। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২২ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয় এটি রৌহা ইউনিয়নবাসীর বহু বছরের স্বপ্ন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে সম্ভাবনার এক নতুন ভোরের প্রতীক।
সাকুয়া বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৭৫ দশমিক ২০ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার। বিশেষ নকশায় নির্মিত আর্চ আরসিসি কাঠামোর এই ব্রিজের মাঝখানে থাকবে না কোনো পিলার দুপাশে দুটি পিলারের ওপর ভর করেই দাঁড়াবে পুরো সেতু।
নেত্রকোণা মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হলেও জেলা শহরসংলগ্ন রৌহা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। বর্ষাকালে খেয়া নৌকা আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। নৌকা ডুবে যাওয়া কিংবা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব এক যুদ্ধ।
নেত্রকোণা জেলা বিএনপির মেয়র নামিনি আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি বলেন, রৌহা ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মগড়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর মেসার্স হামিম ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ২০২৪ সালের ৩ জুন কার্যাদেশের পর শুরু হয় নির্মাণকাজ, যা বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। সেতুটি চালু হলে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে রৌহা ইউনিয়ন ও সাতপাই রেলক্রসিং বাজারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
তিনি আরো বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে রৌহা ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারবেন, কম খরচে ও কম সময়ে জেলা শহর, ময়মনসিংহ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি বিকল্প বাইপাস হিসেবে কাজ করে জেলা শহরের যানজট কমাতে সহায়ক হবে এবং বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে।
মগড়ার বুকে এই আর্চ সেতু কেবল ইট-পাথর-সিমেন্টের নির্মাণ নয় এটি মানুষের দীর্ঘশ্বাস থেকে উঠে আসা এক স্বস্তির নিশ্বাস, বঞ্চনা থেকে সম্ভাবনায় উত্তরণের এক স্থায়ী সেতুবন্ধন। নেত্রকোণার উন্নয়নের মানচিত্রে এটি হয়ে উঠছে এক নতুন আলোকবর্তিকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









