নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদক নির্মূলের নামে বাড়িঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র তছনছ ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শেফালী বেগম নামের এক নারীকে মারধর ও তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে তাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয় বলে দাবি করেছেন ওই নারী।
রবিাবার রাতে শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি সাদরা লেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, পূর্ববিরোধ ও আদালতে মামলা দায়েরের জেরে আরাফাত রহমান রানার নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
শেফালী বেগমের দাবি, ৯ অক্টোবর বাড়ি নির্মাণের সময় রানা তার কাছে ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি ১০ অক্টোবর নীলফামারীর আদালতে মামলা করেন। এর আগেও বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন তারা। সর্বশেষ হামলাটি মামলার জেরেই হয়েছে বলে দাবি তার।
শেফালী বলেন, তিনি একটি পার্লারে চাকরি করেন। তার স্বামী অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু মাদক নির্মূলের নামে বাড়িঘর ভাঙচুর, মালামাল লুট ও তাকে মারধর করার অধিকার কারও নেই। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা মাথার চুল কেটে দেন, আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেন এবং নগদ টাকা নিয়ে যান। আদালতের নির্দেশে নিজ বাড়িতে ফেরার পর তাকে মাদক বিক্রেতা আখ্যা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।
স্বামী সোহাগের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রসঙ্গে শেফালী বলেন, তার স্বামী একসময় মাদক সেবন করতেন, তবে মাদক বিক্রি করতেন না।
অভিযোগের বিষয়ে আরাফাত রহমান রানা বলেন, সোহাগসহ তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে একাধিকবার বলা হয়েছে এবং প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কথা না শোনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় লোকজন ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোহাগের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে এবং এ নিয়ে ক্ষোভ ছিল। তবে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদক নির্মূলে প্রতিটি এলাকায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কাউকে বাড়িঘর ভাঙচুর বা লুটপাট করতে বলা হয়নি। আদালতে মামলা দায়েরের পর যারা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









