চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সারের জন্য ডিলারের দোকানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন কৃষকেরা। রবি মৌসুমে ভুট্টা ও সরিষা চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিএপিসহ প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। কোথাও কোথাও এক বস্তা সারের জন্য রাত তিনটা থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি দামে সার বিক্রি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠলেও উপজেলায় সারের সংকট নেই বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, জমি প্রস্তুত করেও সারের অভাবে বীজ বপন করতে পারছেন না তারা। দেরিতে বীজ বপন করলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার দুপুরে মনাকষা ঈদগাহ মোড়ে সার কিনতে আসা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনাকষা ইউনিয়নের হাঙ্গামী গ্রামের আব্দুল মালেকের ডিলার পয়েন্টে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা ভিড় করেছেন। সেখানে এক বস্তা ডিএপি সারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একই গ্রামের সুফিয়া বেগম। তিনি বলেন, দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য জমি তৈরি করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় বীজ বপন করতে পারেননি।
একই গ্রামের বিধবা ইয়াসবানু বলেন, ২৪ কাঠা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য এক বস্তা ডিএপি সার প্রয়োজন। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাননি তিনি।
কৃষকদের অভিযোগ, আব্দুল মালেকের ডিলার পয়েন্টে শতাধিক কৃষক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সার পাননি। সার শেষ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ডিলারের গুদামে গেলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গুদামের ভেতরে সারি সারি বস্তা দেখা গেছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এ বিষয়ে ডিলার আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মনাকষা বাজারে আরেক ডিলার আকবর মিয়ার গুদামের সামনেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মনাকষা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের সার দেওয়ার কথা থাকলেও অন্য ইউনিয়নের কৃষকেরাও সার পেয়েছেন।
সেখানে সার নিতে আসা নুরুল ইসলাম ছয় বিঘা, মুসাফিক পাঁচ বিঘা, সুমন ২০ বিঘা এবং ইমন ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য সার কিনতে এসেছিলেন। তাদের অভিযোগ, রাত তিনটা থেকে অপেক্ষা করেও সার পাননি। গুদামের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে পুলিশের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন কৃষক।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন মিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট বা সিন্ডিকেট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, কৃষকদের আগাম সার মজুত করার প্রবণতা ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার প্রয়োগের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, নভেম্বর মাসের জন্য উপজেলায় ১ হাজার ২৭৭ মেট্রিক টন ডিএপি, ৫০ মেট্রিক টন এমএপি, ২০৪ মেট্রিক টন টিএসপি ও ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধে চলমান অভিযানে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সার ডিলার আকবর হোসেনের দাবি, কৃষকেরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার কিনতে চাওয়ায় সংকট তৈরি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ প্রকৃত কৃষকের তালিকা তৈরি করে তাদের জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের চাহিদা নির্ধারণ করলে এ সমস্যা কমবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









