ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের আলোচনায় যুদ্ধের অবসান ও ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া এবং ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে দুই নর্ডিক নেতার এ উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ইউরোপের ভূমিকা জোরালো করা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক সহযোগীর বরাতে বলা হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর স্টাব ও স্টোরে জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।
পুতিনের সঙ্গে আলোচনাকে ‘খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন স্টাব। স্টোরের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রতিবেশী হিসেবে যুদ্ধের ফলাফল ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন।
স্টোরে বলেন, এ যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব কয়েক প্রজন্ম ধরে থাকতে পারে। তাই ফোনালাপে তারা উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দুই নেতা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আপসের ইঙ্গিত নেই মস্কোর
পুতিনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ক্রেমলিনের বিবৃতিতে রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার বৈধ স্বার্থগুলো পুরোপুরি ও নিঃশর্তভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সংঘাতমূলক নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে বলেও দাবি করেছে মস্কো।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে পশ্চিম ইউরোপের নেতারা সাধারণত পুতিনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছেন। মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইউরোপের ভূমিকা সীমিত হয়েছে এবং আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব বেড়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইউক্রেনের স্বার্থ উপেক্ষা করে তিনি পুতিনের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল—এমন উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে। চলতি মাসে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহে পুতিনের সম্মতি, মস্কোর ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং জেলেনস্কির পরিবর্তে ইউক্রেনের অন্য নেতা বেছে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর মন্তব্য এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কাজে গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ।
দুই নেতার উদ্যোগে ডেনমার্কের আপত্তি
পুতিনের সঙ্গে স্টাব ও স্টোরের সরাসরি আলোচনার সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ডেনমার্কের সম্প্রচারমাধ্যম ডিআরকে তিনি বলেন, রাশিয়া শান্তি চায়—এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখছেন না। ইউরোপের উচিত এককভাবে উদ্যোগ না নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
তবে স্টাব ও স্টোরে বলেছেন, তারা নিজ নিজ দেশের নেতা হিসেবে ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন, পুরো ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব করেননি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ এবং মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে।
রয়টার্সকে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতা ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাদের মধ্যে ওই আলোচনা হয়। তবে তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি এবং কোনো ফলও আসেনি।
সূত্রটির দাবি, পুতিন স্টাব ও স্টোরেকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পুরো দনবাস অঞ্চল দখলের লক্ষ্য থেকে রাশিয়া সরে আসবে না। জবাবে দুই ইউরোপীয় নেতা ‘ন্যায়সংগত’ শান্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









