পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, জমিটি মন্দিরের দাবি করে তা উদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্দির কমিটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে স্বরূপকাঠী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন এবং আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে নিজের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছেন। জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, একটি মহল তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
শফিকুল ইসলামের দাবি, বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৫৯২ নম্বর দাগের জমি সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে কিনে আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে রেকর্ডভুক্ত করেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তাঁর জমি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফসল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পিরোজপুরের আদালতে এমপি ৩৩৯/২৫ ও সি আর ৩৮/২৬ নম্বর মামলা করেছেন, যা বিচারাধীন। তাঁর অভিযোগ, টুটুল আইচের নেতৃত্বে জমিতে মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, সমুদয়কাঠী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দির কমিটির দাবি, ১৯৬২ সালে ধর্মীয় কার্যক্রম ও উৎসব পালনের জন্য ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে রয়েছে বলে দাবি কমিটির।

মন্দির কমিটির ভাষ্য, ২০১৬ সালে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন করা হয় এবং প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত না করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের। ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান জমি কিনলেও সংশ্লিষ্ট দলিলের দাগ ও সীমানায় মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ ছিল না বলেও দাবি করেন মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শফিকুল ইসলাম জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর নামজারি রেকর্ডে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও তিনি পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে চাষ করছেন বলে অভিযোগ করেন টুটুল। প্রকৃত রেকর্ড ও কাগজপত্র দেখাতে পারলে জমি ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। জমি নিয়ে প্রতিবাদ করায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও এআই ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগও করেছে মন্দির কমিটি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সমুদয়কাঠী বাজারে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। এতে লিখিত বক্তব্য দেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও জমির শরিকদের পক্ষে মনোজ বিশ্বাস। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও আদালতের নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে। শফিকুল ইসলামও প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









