মার্ভেল স্টুডিওর জনপ্রিয় সুপারহিরো সিনেমা ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ, সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় প্রাথমিক বাজেট ছাড়িয়ে গেছে। ডিজনির যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কসমিক বুক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রায়ান রেনল্ডস ও হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত সিনেমাটির মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৫৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে। এ ব্যয়ের কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাগুলোর শীর্ষ দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

কেন বেড়েছিল নির্মাণ ব্যয়?
২০২৩ সালে হলিউডে অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘটের কারণে সিনেমাটির শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় সিনেমাটির প্রায় অর্ধেক শুটিং শেষ হয়েছিল।
শুটিং বন্ধ থাকার সময় পরিচালক শন লেভি ও তার দল গল্পে উলভারিনের বিভিন্ন সংস্করণকে নিয়ে নতুন কিছু দৃশ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। এসব দৃশ্য নির্মাণে নতুন পোশাক, সেট ও অন্যান্য সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়, যা ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া ধর্মঘটের সময় শুটিং বন্ধ থাকলেও স্টুডিও ভাড়া, সরঞ্জাম সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ কলাকুশলীদের ধরে রাখার জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির এক বছরেরও বেশি সময় পরও নির্মাণসংক্রান্ত খরচ চলতে থাকে। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়া অর্থবছরে এর পেছনে আরও ২ কোটি ৩১ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।

যুক্তরাজ্যের কর-সুবিধায় কমেছে নিট ব্যয়
সিনেমাটির শুটিং যুক্তরাজ্যের পাইনেরউড স্টুডিওতে হওয়ায় ডিজনি দেশটির সরকারি কর-সুবিধা ও অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বাবদ ডিজনি ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার পেয়েছে। ফলে কর-সুবিধা বাদ দেওয়ার পর সিনেমাটিতে তাদের নিট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৪৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারে।

বক্স অফিসে আয় ১৩৪ কোটি ডলার
বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ১৩৪ কোটি ডলার। মহামারির পর শুধু মার্ভেল স্টুডিওর প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম এককভাবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, সিনেমা হলগুলোর সঙ্গে টিকিট বিক্রির আয় ভাগাভাগি করে ডিজনির অংশ প্রায় ৬৭ কোটি ডলার হতে পারে। নিট নির্মাণ ব্যয় বাদ দিলে বক্স অফিস থেকে আনুমানিক ২২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার অবশিষ্ট থাকে।
তবে এটিকে ডিজনির চূড়ান্ত মুনাফা বলা যাবে না। কারণ, এ হিসাবে বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রচারণা, বিপণন, পরিবেশনা এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই। অন্যদিকে, স্ট্রিমিং, হোম ভিডিও ও পণ্য বিক্রি থেকেও অতিরিক্ত আয় হতে পারে।
ডিজনির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে সিনেমাটির সামগ্রিক লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণ করা যায় না।
সব মিলিয়ে, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ব্যয়ে নির্মিত হলেও ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। সিনেমাটির আয় মার্ভেলের সাম্প্রতিক সময়ের ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









