গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে আগামী শনিবার ( ৩১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ও জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রুটে ঘোষিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ ও সমন্বিত পরিকল্পনা।
জানা গেছে, লংমার্চ ও জনসভা সফল করতে কুষ্টিয়া জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের ৫৯৪টি ওয়ার্ড এবং সকল পৌরসভা এলাকায় একযোগে জোরদার প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। লংমার্চের খবর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও স্বাগত মিছিল। পাশাপাশি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে আকর্ষণীয় তোরণ, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন।
এদিকে জনসভার ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের অবস্থানে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা নিরসন হয়। শুরুতে জামায়াতের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের আবেদন করা হলে প্রশাসন বিকল্প মাঠ খুঁজতে বলে। পরে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠকে কেন্দ্র করে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের আপত্তির মুখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়। অবশেষে প্রশাসনের চিঠি ও কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতাদের সিদ্ধান্তে আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামকেই জনসভার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেডিয়ামে মঞ্চ তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রচারণা তদারকি করছেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ.কে.এম আলী মুহসিন, সেক্রেটারি এনামুল হক, নায়েবে আমীর ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হুসাইন এবং চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্য রুহুল আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও উলামা বিভাগের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আসন্ন এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
প্রস্তুতির বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আমীর খন্দকার এ.কে.এম আলী মুহসীন বলেন, “কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে আমরা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত ধাপে। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটবে এবং এটি একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









