সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। প্রথম দফায় ৯ জনের মরদেহ দেশে আসার পর এবার দ্বিতীয় দফায় ফিরছে বাকি ৭ জনের মরদেহ। আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ খবরে আত্রাইয়ের স্বজনদের মধ্যে আবারও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৯ অক্টোবরের পৃথক দুটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। দুর্ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ২৬ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১১ জন ছাড়াও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন, নওগাঁ সদর উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।
প্রথম দফায় দেশে আসা নয়জনের মধ্যে আত্রাইয়ের সাতজন, নলডাঙ্গার একজন ও বাগমারার একজন ছিলেন। দ্বিতীয় দফায় আসা সাতজনের মধ্যে আত্রাইয়ের চারজন, নলডাঙ্গার দুজন এবং নওগাঁ সদরের একজন রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের ২৯ অক্টোবরের চিঠিতে নিহতদের মরদেহ গ্রহণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, একই দুর্ঘটনায় আত্রাই উপজেলার ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে ফেরার পর এবার আরও চারজনের মরদেহ আসার খবরে শোকাহত পরিবারগুলোতে আবারও কান্নার রোল উঠেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









