ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো।
গত জুনে ঘটে যাওয়া ওই দুর্যোগে চার হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের পাশে কঠিন সময় পার করা ত্রেহোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ও তার স্ত্রী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জো। প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তারা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ফুটবলার।
লা রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে ত্রেহো জানান, অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জোর নিজস্ব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় সে সময় বিষয়টি তিনি জানতে পারেননি। পরে তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়।
ত্রেহো বলেন, ‘মানসিকভাবে তখন আমি এতটাই বিপর্যস্ত ছিলাম যে বিষয়টি আমাকে পরে জানানো হয়েছিল। প্রথম যিনি আমাদের সহায়তা করেছিলেন, তিনি অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জো। তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমাদের ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাঠানো হয়েছিল। ফলে পানীয় কিংবা খাবারের কোনো অভাব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে ইন্টারনেটের ব্যবস্থাও ছিল। ঘুমানোর জন্য তাঁবু তৈরি করতে পেরেছিলাম। তিনি সত্যিকার অর্থেই আমাদের পাশে ছিলেন। এই বিষয়টি আমি কখনও ভুলব না।’
আর্জেন্টিনার কর্দোবায় জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার জানান, দুর্যোগের সময় ভেনেজুয়েলার ক্লাব মোনাগাস ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল। ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের পাশে একটি ভবনের কাছে টানা তিন দিন কাটাতে হয়েছিল তাকে। তখন তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিদ্যুৎ, খাবার ও পানীয়ের সংকটের মধ্যেও বন্ধুদের নিয়ে ১৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সেখানে অবস্থান করেছিল।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে ত্রেহো বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে দুটি ক্লাব আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। একটি ভেনেজুয়েলার মোনাগাস, যেখানে আমি আগে খেলেছি। অন্যটি ইন্টার মায়ামি, যে ক্লাবটির দিকে এখন ফুটবল বিশ্বের নজর। ভূমিকম্পের পর সবকিছু যখন ঘটে, তখন সবচেয়ে বেশি পাশে ছিল এই ক্লাবটি। ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ধ্বংসস্তূপের পাশে একটি ভবনের কাছে টানা তিন দিন কাটিয়েছি। বিদ্যুৎ ছিল না, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পানীয় বা খাবার কিছুই ছিল না। আমার বন্ধুদের নিয়ে ১৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সারাদিন সেখানে ছিলাম।’
মেসির ব্যক্তিগত সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ত্রেহো। তার ব্যবহৃত পোশাক ও জুতা একটি স্যুটকেসে করে পাঠিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। তখন মেসি বিশ্বকাপে খেলছিলেন।
এ প্রসঙ্গে ত্রেহো বলেন, ‘অনেকেই সমবেদনা ও সমর্থনমূলক বার্তা পাঠান। কিন্তু বাস্তবে খুব কম মানুষই কিছু করেন। তাই বিষয়টি আমি বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাই। অন্য স্যুটকেসটি পাঠিয়েছিলেন লিও মেসি। সেখানে ছিল তার নিজের পোশাক ও জুতা। আমার জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ে তিনি সেগুলো পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি বিশ্বকাপে খেলছিলেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও এই খবর পাওয়ার পর তিনি যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারণ।’
ভবিষ্যতে মেসি ও অ্যান্তোনেলার সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানানোর আশাও প্রকাশ করেছেন ত্রেহো। তিনি বলেন, ‘আশা করি আমি শিগগিরই সেখানে যেতে পারব, তাদের জড়িয়ে ধরতে পারব এবং আমার জন্য যারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে পারব। ইতিহাসের সেরা ফুটবলার আমার জন্য এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, একইসঙ্গে সেই কঠিন সময়ে আমার পুরো পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। তাই এই সাক্ষাৎকারে বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরে তাদের ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছি।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









