নীলফামারীর ডিমলায় যৌতুকের অংশ হিসেবে দেওয়া জমির দখল ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মিনা বেগম (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছোট ছেলেকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা বেগম ওই এলাকার জামিনুর রহমানের স্ত্রী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রামের সামছুল হক (৬৫), সবুজ (২৮), তার মা ছবিরন (৫০) ও বোন রাহেনা বেগম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের ছেলে মিলনের (২৪) সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে হামিদা বেগমের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি চাষাবাদের জন্য জামাতা মিলনকে দেন। পরে জমির দখল, চাষাবাদ ও ফসল নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়। সালিশে চলতি ধান কাটা শেষে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাটা ধানগাছ সংগ্রহ করতে যায় মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪)। এ সময় আয়নাল হক, তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট ছেলের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মিনা বেগম। একপর্যায়ে হামলাকারীরা লাঠি ও কাঁচি দিয়ে তাকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ছামিদুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা জানান, মিনা বেগম মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও সেখানে কয়েকজন ধান কাটছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, জমির দখল ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









