নাটোরের নলডাঙ্গায় সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন কৃষক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নলডাঙ্গা উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার শ্যাম সুন্দর আগারওয়ালের দোকানে সার বিতরণ করা হয়। কিন্তু সকাল থেকেই শতশত কৃষক দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সকালে এক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারও সারের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে গতকালও একই উপজেলার মাধনগরে সার বিতরণ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিসিআইসি সার ডিলার শ্যাম সুন্দর আগারওয়াল ডিলার বাবু বলেন, সকাল ৯টা থেকে নিয়ন্ত্রক ভাবে উপজেলা কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে স্যার বিতরণ চলছিল। কৃষকরা নিয়মমাফিক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সার নিচ্ছিল, হঠাৎ কৃষকদের মাঝে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কৃষি অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে।
উপজেলা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সারের বরাদ্দ আছে। আমাদের যারা ডিলার আছেন, তারা সার উত্তোলন এবং বিতরণ করছেন। পৌরসভা ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের সময় কৃষকদের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। এ সময় কয়েকজন কৃষক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নাই। আমাদের ফসল আবাদ করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তদুপরি আমাদের কৃষকরা চাচ্ছে আগাম সারগুলো নিয়ে ঘরে মজুদ করে রাখতে যাতে করে সিজনে তাদের কোনো সমস্যা না হয়। নিয়ম তান্ত্রিকভাবে সার বিতরণের জন্য আমরা ডিলারদের নিয়ে বসেছিলাম তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই অবস্থা যাতে তৈরি না হয়। সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









