নওগাঁর মান্দায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা থেকে গত ২৫ আগস্ট জারি করা এক পরিপত্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের অনুমোদিত মূল ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এ নির্দেশনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারসংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২ নভেম্বর বিকেলে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলার ১১ নং কালিকাপুর ইউনিয়নের চকগৌরী বাজারে গেলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে চলে যান। এ ছাড়া উপজেলার সতীহাট, দেলুয়াবাড়ী ও চৌবাড়ীয়াসহ কয়েকটি বাজারে প্রকাশ্যেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও ৯ নং তেতুলিয়া ইউনিয়েন গুসাইপুর গ্রামের রিয়াজুর ইসলাম বলেন, ‘‘আমি গত চার থেকে পাঁচ দিন আগে দেলুয়াবাড়ি বাজারে এক দোকান থেকে ১৭০০ টাকা দরে এক বস্তা ডিএপি স্যার বাধ্য হয়ে ক্রয় করেছি।’’
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শায়লা শারমিন বলেন, “কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়মে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত মূল্য অবশ্যই মানতে হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কৃষকদের দাবি, সারসংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









