নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা জনপদে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাতভর সাঁড়াশি অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলায় মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোফা গ্রামে অভিযান চালায়। সারফুল ইসলামের বাড়িকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গরু চোরাচালান ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য ছিল পুলিশের হাতে।
অভিযান শুরুর পরপরই স্থানীয় চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ডিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলায় এসআই আব্দুল জলিল, এসআই শওকত আলী, এএসআই আবুল কালামসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে থাকা এক স্থানীয় সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলমাকান্দা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ ডিবি সদস্যদের উদ্ধার করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, পাঁচটি ভারতীয় গরু, পাঁচ বোতল ভারতীয় মদ, ২০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, হামলা ও চোরাচালানের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দিতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









