ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছরের শিশু তাবাসসুম হত্যায় জড়িত আবু তাহের নামে একজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়।
এরআগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে তাবাসসুম নামের ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার আগে বুধবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের ভাইয়ের ভাড়াবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আবু তাহেরকে। সে কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে। আবু তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ঝিনাইদহ পুলিশের এএসপি মাহফুজুর রহমান জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজের সংবাদ জানার পর পুলিশ শিশুটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে। পরের দিন উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এরপর থেকে হত্যার সাথে জড়িতদের ধরতে কাজ শুরু হয়। সম্পূর্ণ ক্লুলেস হত্যার এই ঘটনায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ হত্যাকারীকে শনাক্ত করে। পরে জানা যায় আবু তাহের কুষ্টিয়ায় তার ভাইয়ের বাসায় রয়েছে। সেখানে কুষ্টিয়া পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, আবু তাহের বারোবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে শিশু তাবাসসুমদের বাসার পাশের বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসার মালামাল রাখতো। ঘটনার দিন চিপস ও জুসের লোভ দেখিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর তার উপর শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার কাছে থাকা লুঙ্গি দিয়ে মুখ চেপে ধরে। মুখ চেপে ধরার এক পর্যায়ে শিশুটি মারা যায়। এরপর রাত হলে একটি বস্তায় ভরে পাশের ওই স্কুলের পিছনের সেফটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের কালীগঞ্জ থানার ওসি ও চাঞ্চল্যকর এ শিশু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে তাবাসসুম নামের ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির পরিবার বারোবাজার এলাকার বাদেডিহী গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ও মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









