নেত্রকোণার বারহাট্টায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিশ্চিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ টালবাহানা ও পলাতক থাকার পর এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. গোলাম কিবরিয়াকে (২৮) আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কিবরিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রতিবেশী কিবরিয়া ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এর ফলে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি আগস্ট মাসে এলাকায় জানাজানি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিচারের দাবি নিয়ে কিশোরীর পরিবার কিবরিয়ার দ্বারে গেলে বিয়ে করা তো দূরে থাক, উল্টো কিশোরীর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয় অভিযুক্তের প্রভাবশালী পরিবার।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থামামলা দায়ের: নিরুপায় হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরীর বাবা বারহাট্টা থানায় কিবরিয়া ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার পরপরই সহযোগিতার অভিযোগে পারুল আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও কিবরিয়া পালিয়ে যান ।
গত ২২ ডিসেম্বর নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন:"নবজাতকের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন কারাগারে থাকা কিবরিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।"
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভিযুক্ত কারাগারে যাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও এখন নির্যাতিতা কিশোরী ও তার নবজাতকের আইনি অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









