শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর জয়নাল সরদার হত্যা মামলার মূলহোতা তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত জয়নাল সরদার গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুরে খাবার খেয়ে বিকেল ৪টার দিকে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি মায়ের ওষুধ দিয়ে পুনরায় রিকশা চালানোর উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্থানীয় একটি গ্যারেজে রিকশা রেখে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে নড়িয়া থানাধীন ঘড়িষার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকায় হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি পুকুরে ভাসমান প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার মুখ খুলে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি জয়নাল সরদারের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ঈশা আক্তার ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নড়িয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (ধারা ৩০২/২০১/৩৪, দণ্ডবিধি) দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. রিবিউল হক ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দুইজনকে শনাক্ত করেন। এর মধ্যে মো. রবিন শেখ (৩২) কে মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মামলার মূলহোতা তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরী (৪৯), পিতা-মৃত শাহ বেলায়েত হোসাইন নূরী, সাং-সুরেশ্বর দরবার শরীফ, ওয়ার্ড নং-১, ইউপি-ঘড়িষার, থানা-নড়িয়া, জেলা-শরীয়তপুরকে সনাক্ত করা হয়।
৪ মার্চ ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু, শটগানের ১৩৩টি কার্তুজ, ৬টি হার্ডড্রাইভ, ১টি এসএসডি, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি ডিভিআর, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ৪টি বাটন মোবাইল, ২টি স্লিং শট রাইফেল, শটগানের বিভিন্ন অংশ ও একটি শটগানের বক্স উদ্ধার করা হয়।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো.বাহার মিয়া বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









