আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। জনবল সংকট ও অল্প সময়ের মধ্যেই ঈদযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কারখানায় এবার একযোগে ১০৬টি যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কর্মচাঞ্চল্যে মুখর করে তুলেছে পুরো এলাকা।
সম্প্রতি কারখানার ২৯টি শপ বা উপ-কারখানার ইনচার্জদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কস ম্যানেজার (ডব্লিউএম) মমতাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কারখানা সূত্র জানায়, মেরামতের জন্য নির্ধারিত কোচগুলোর মধ্যে ৬০টি ব্রডগেজ এবং ৪৬টি মিটারগেজ লাইনের। এসব কোচ মেরামতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে খুব কম সয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কোচ প্রস্তুত করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে টানা কর্মযজ্ঞ।

কারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই মেরামতকৃত কোচগুলো রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার বাইরে আরও কিছু কোচ মেরামত করা সম্ভব হতে পারে।
যদিও গত ঈদুল ফিতরে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১৬৭টি কোচ মেরামত করা হলেও এবছর জনবল সংকটের কারণে সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে ১০৬টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা। ঈদের সময় যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কোচ মেরামত করা হয়। এসব কোচ দিয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে এবং আন্তঃনগর ট্রেনেও অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও জনবল পেলে এই কারখানায় ইঞ্জিন ছাড়া ট্রেনের প্রায় সব যন্ত্রাংশ তৈরি ও সংস্কার করা সম্ভব।
রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাতেও ১০০টি মিটারগেজ কোচ মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ফলে সারাদেশে ঈদযাত্রী পরিবহনে রেলওয়ের প্রস্তুতি আরও জোরদার হচ্ছে।
উল্লেখ্য ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোচ মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। শতবর্ষের বেশি সময় ধরে এই কারখানার শ্রম ও দক্ষতার ওপর ভর করেই নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত হয়ে আসছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোচগুলো প্রস্তুত হলে এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক রেলযাত্রার সুযোগ পাবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









