সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে দিনের আলোতে সিএনজির ভেতরে এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১ মার্চ (রবিবার) উপজেলার পলাশ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মামলার পর বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: সোহেল মিয়া (৩০): সুনামগঞ্জ শহরের বাঁধনপাড়ার বাসিন্দা (কিশোরীর কথিত প্রেমিক)। মো. এরশাদ মিয়া (৩৪): গনিপুর এলাকার বাসিন্দা (ধর্ষণে অভিযুক্ত)। মাসুম মিয়া (২৫): বড়পাড়া এলাকার সিএনজি চালক (সহযোগিতাকারী)।
পুলিশ ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথের ওই কিশোরীর সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের ভৈরব দাস নামে এক যুবকের প্রেম হয়। গত কয়েক মাস আগে কিশোরী বাড়ি থেকে পালিয়ে সুনামগঞ্জে ভৈরবের কাছে আসে। কিন্তু ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় ভৈরব তাকে গ্রহণ না করে তার বন্ধু সিএনজি চালক সোহেল মিয়ার জিম্মায় দেয়। সোহেল তখন কিশোরীর পরিবারকে খবর দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক সোহেলের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় ওই কিশোরী। সোহেলের ডাকে সাড়া দিয়ে সে আবারও সুনামগঞ্জ চলে আসে। সোহেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৫-১৬ দিন নিজের বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
গত ১ মার্চ সোহেলের মায়ের সাথে কিশোরীর ঝগড়া হলে, সোহেল তাকে বন্ধু এরশাদ মিয়ার বাসায় রেখে নিজে সিলেট চলে যায়। কিশোরী সেখান থেকে বাড়ি ফিরতে চাইলে এরশাদ ও সিএনজি চালক মাসুম তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নির্জন স্থানে চলন্ত সিএনজির ভেতরেই এরশাদ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় মাসুম বাইরে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে কিশোরী বিষয়টি সোহেলকে জানালে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা বিভাগ কিশোরীর পাশে দাঁড়ায়।
এই ঘটনায় কিশোরী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার এবং ঘটনার ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জহির হোসেন জানান, "ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কিশোরী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









