একটি সেতু। ২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৬ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া বাজার থেকে তেঁতুলতলা সংযোগ সড়কের সেতুর নির্মাণ কাজ এখন অনিশ্চতায়।
গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির অভাবে কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের ৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ পায় টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে, শেষ করার কথা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর নির্মাণস্থলে কাজ আংশিক শেষ হয়ে পিলারের কতগুলো রড দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তী কাজের জন্য ঠিকাদারের কোনো মালপত্র সেখানে নেই। নেই কাজের কোনো সাইনবোর্ড, নেই কোনো শ্রমিক। চলাচলের জন্য পূর্ব পাশ দিয়ে যে বিকল্প সাঁকো করা হয়েছে, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
১৬৪ নং উত্তর ভেচকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান বাদল বলেন, ‘৩ বছর ধরে ব্রিজটি এভাবে পড়ে আছে। মানুষ খুব ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বারবার বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। ব্রিজ না থাকায় হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।’ ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। ছোট ছোট বাচ্চারা এখান থেকে পারাপার হতে খুবই কষ্ট হয়। বৃদ্ধরা এখান থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন।

বাইশকুড়া এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশা চালক ইউসুফ আলী (৩৫) জানান, আমরা চাইলেও দূরে ভাড়া নিয়ে যেতে পারি না। ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন হোসেন (৪০) জানান, গত তিন বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ খুব দুর্ভোগে আছে। বৃষ্টির সময় প্রচণ্ড পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, ‘৩৭ মিটার ব্রিজটি ২০২০ সালে শুরু হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জায়গা জটিলতা ও বামনার রোডের দিকের অ্যাপ্রোজে জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে কাজটি শুরু করতে দেরি হয়। আমি ২০২২ সালে সেপ্টেম্বরে জয়েন করি। তারপর পাইলিংয়ের কাজ শেষ করে ঠিকাদারের কিছু বকেয়া বিল পাঠাই সেখান থেকে তিনি কিছু বিল পেয়েছেন, সম্পূর্ণ বিল পাননি। কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোন সাড়া মেলেনি। এখন রিটেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এ ব্যাপারে টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোন নম্বরটি পাওয়া পায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









