প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে বরিশালের হিজলা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। “ফ্যামিলি কার্ড উন্নয়নের সিঁড়ি, স্বাবলম্বী হবে প্রতিটি বাড়ি” প্রতিপাদ্যে স্মার্ট পরিবার গঠনের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রোববার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রান্তিক, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমবে এবং তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা সহজে পাবে। সঠিকভাবে কার্ড বিতরণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হিজলা উপজেলার বরজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৬৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই শেষে আরও যোগ্য পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে যারা ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী, তারা এ কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
তৃতীয় পর্যায়ের এ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ.কে.এম. আখতারুজ্জামান তালুকদার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় উপকারভোগীরা।
বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার একটি আধুনিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং একটি স্বাবলম্বী ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









