রাজবাড়ীর পাংশায় আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা–২০২৬-এর ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ উঠেছে। দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে তাদের কয়েক দিন ধরে কলেজে ঘোরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (৯ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কলেজে অবস্থান করছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ২৩ জন শিক্ষার্থীকে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন জানান, অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান তাদের কলেজে আসতে বললেও তিনি নিজেই কলেজে উপস্থিত থাকছেন না। ফলে গত তিন দিন ধরে তারা বারবার কলেজে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
একজন শিক্ষার্থীর বড় বোন আঁখি খাতুন বলেন, “স্যার এর আগে একদিন আমাদের আসতে বলেছিলেন। সেদিন এসে তাঁকে পাইনি। পরে জানতে পারি তিনি এসে অফিসের কাজ সেরে চলে গেছেন।”
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য ২৩ জন শিক্ষার্থী একটি সুযোগ চাই। সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো ফলাফল করতে পারব।”
অধ্যক্ষের কাছ থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এতে তারা চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা–২০২৬-এর ফরম ফিলাপে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কলেজের বিএম শাখায় কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা এক শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ করানোর জন্য ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদ রুমির কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
বিএম শাখার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের বিষয়ে কলেজের হিসাবরক্ষক … বলেন, এটি কারিগরি বোর্ডের অধীন হওয়ায় এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে জেনারেল শাখায় এ সুযোগ নেই।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, “মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এ বছর বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ স্যার কলেজে না থাকায় ফরম ফিলাপ করানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। আর ফরম ফিলাপে যেটা প্রযোজ্য সেটাই নেওয়া হচ্ছে।”
তবে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান অনুপস্থিত থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তহীনতায় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









