বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

নেত্রকোনায় শ্বশুরবাড়িতে চুরি, হাতেনাতে ধরা বাবা–ছেলে

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

নেত্রকোনায় শ্বশুরবাড়িতে চুরি, হাতেনাতে ধরা বাবা–ছেলে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নেশার টাকা জোগাড় করতে শ্বশুর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন জামাই ও তাঁর বাবা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। 

সোমবার (৯ মার্চ) নেত্রকোনার মদন উপজেলার পৌর এলাকার শ্যামলী রোডে ঘটনাটি ঘটেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) এবং তাঁর ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।

মদন থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে শ্বশুরের ঘরে পুনরায় চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবা–ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে তরুণ চন্দ্র কর্মকার মদন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাঁর বাবা বরুণ চন্দ্র স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই নেশার টাকার জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন তরুণ। একপর্যায়ে স্ত্রীর সব গহনা বিক্রি করে দেন তিনি। এরপরও নেশার খরচ মেটাতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাবা–ছেলে মিলে শ্বশুরের বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে বিক্রি করেন।

সর্বশেষ রোববার রাতে আবারও শ্বশুরের ঘরে চুরি করতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে হাতেনাতে ধরে তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিতা–পুত্র দুজনই স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত বরুণ চন্দ্র কর্মকার জানান, টাকার চাপে পড়ে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বিক্রি করেছেন। তবে কাজটি যে ভুল হয়েছে, তাও স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার দাবি করেন, তিনি আগে নেশা করলেও বর্তমানে ইয়াবা সেবন করেন না। তবে বাবার সঙ্গে মিলে শ্বশুরের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার ঘটনাটি ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্বশুর অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, জামাইয়ের নেশার কারণে তাঁর মেয়ের সব অলঙ্কার বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আবার তাঁর জমানো স্বর্ণালঙ্কারও চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “শ্বশুরের ঘরে চুরির অভিযোগে পিতা–পুত্র দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টিআর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.