প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চর ঝিকড়ী গ্রামের ১ হাজার ২০১টি উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ বাংলাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা যেমন নারীকে সম্মান করেছি, নারীর শ্রমকে সম্মান করেছি এবং অর্থনীতির শক্ত ভিত স্থাপনের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন শিগগিরই করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ী জেলার নদীবেষ্টিত অবস্থান বিবেচনায় এখানে একটি পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সকল মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন। যে কারণে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। তাই নির্বাচনের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা-ই করব।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং পর্যায়ে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২০১টি পরিবারকে উপকারভোগী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলো প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাবে এবং ইতোমধ্যে তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার্ড গ্রহণের সময় উপকারভোগী রহিমা খাতুন বলেন, সকালে অনুষ্ঠানে আসার পথে ভ্যানে থাকতে থাকতেই তাঁর মোবাইলে ২ হাজার ৫১৫ টাকা এসেছে। “টাকা পেয়ে যেন মরা মানুষ তাজা হয়ে গেছি,”—এমন মন্তব্য করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহম্মেদ, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আহসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপজেলার উপকারভোগী পরিবার, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









