নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৫২ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত পাঁচ বছরের কিছু বেশি সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ১০৭ জন গর্ভবতী মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সরকারি এই হাসপাতালের বিনামূল্যের সিজার সেবা স্থানীয় মায়েদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা ছিল না। পরে ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু করা হয়। সে সময়ের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদুর রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম বছর মাত্র ৪ জন মায়ের সিজার করা হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, ২০২২ সালে ১৫ জন, ২০২৩ সালে ৩৩ জন, ২০২৪ সালে ১৯ জন, ২০২৫ সালে ২৫ জন এবং ২০২৬ সালের ৮ মার্চ পর্যন্ত ১১ জন গর্ভবতী মায়ের সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ বছরে মোট ১০৭টি সিজার সম্পন্ন হয়েছে।
গাইনী বিভাগের তথ্যমতে, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নাদিয়া মির্জা, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স হাবিবা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. নাদিয়া মির্জা জানান, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে রবি ও বুধবার গড়ে ৪ থেকে ৫টি সিজারিয়ান অপারেশন এবং ২ থেকে ৩টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।
গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ নিতে হাসপাতালে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান জন্মদানের আগে মায়েদের অন্তত ৭ থেকে ৮টি পরীক্ষা প্রয়োজন, যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, “আমরা সবসময় স্বাভাবিক প্রসবকে গুরুত্ব দিই। আমাদের লক্ষ্য অন্তত ২৫ শতাংশ স্বাভাবিক ডেলিভারি নিশ্চিত করা। তবে প্রয়োজন হলে শতভাগ বিনামূল্যে সিজার সেবা দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈম হাসান বলেন, হাসপাতালের সিজারিয়ান ব্যবস্থাপনা এখন অনেক উন্নত। তবে অপ্রয়োজনীয় সিজার কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসব বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক-আপ ও পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
চিকিৎসকরা জানান, গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত হাসপাতালে এসে সেবা নিলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









