জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শাপলা কলি প্রতীক আপনাদের উন্নয়নের স্বার্থে তুলে দেব। এবং শাপলা কলি বিজয় লাভ করে স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধিত্ব করবে ইনশাআল্লাহ।
বুধবার (১১ মার্চ) রংপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সারা দেশের মানুষ জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমাদের দেশের সোনার সন্তানদের রক্তে গড়া নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে সংস্কারের দাবি আমরা আদায় করে ছাড়বো। আমরা আশা করি সরকারি দল সেই দাবি পূরণে শপথ নেবেন। সেই সাথে পুরনো রাষ্ট্রপতি সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে আপনারা নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হবেন।
এ সময় প্রধান বক্তা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, আমরা রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছি। আমরা লড়তে পারি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, দোসরের বিরুদ্ধে, রংপুরের সন্তান দুই হাত মেলে যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, সেই সাহসিকতার প্রতিদান রংপুরের মানুষ ২৬-এর জাতীয় নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের যে দালালি করেছে, ফ্যাসিবাদ এর সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা দিয়েছিল, সেই জাতীয় পার্টি রংপুরের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। তাদের অহংকার, অহমিকা, দাম্ভিকতা রংপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে চিরতরের জন্য চুরমার করে দিয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম বলেন, এর আগে যারা জনপ্রতিনিধি ছিল, মেয়র ছিল, এমপি ছিল, জনগণের ভোটের আমানতকে তারা তাদের পেট ভরার এক একটা রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সারজিস বলেন, আমরা যখন রংপুর সিটি করপোরেশনের দিকে তাকাই, সব কটি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এই রংপুর সিটি কর্পোরেশন একমাত্র অবহেলিত। এখানকার রাস্তাঘাট, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোন কিছুরই উন্নয়ন হয়নি। এমনকি বাংলাদেশের প্রথম সারির কোন জেলার সমতুল্য নয়।
রংপুরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদেরকে আহ্বান জানাই, আগামী সিটি নির্বাচনে ইনসাফের পক্ষে আপনারা আপনাদের মেয়র নির্বাচিত করবেন। এই রংপুর শহর থেকে চাঁদাবাজরা পুরো রংপুর বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনারা যে ভাবে ভোট দিয়ে ইনসাফের পক্ষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন ঠিক একইভাবে আগামী নির্বাচনে রংপুর সিটি কর্পোরেশন সহ স্থানীয় সকল নির্বাচনে ইনসাফের পক্ষে ভোট দিয়ে দেশ ও জাতিকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এই সময় দোয়া কবুলের সময়, এই শুভক্ষণে আপনাদের বলতে চাই, রংপুরে নতুন একটি বিজয়ের সূচনা হয়েছে আপনারা কি তা দেখতে পেয়েছেন? তা হলো রংপুর থেকে চিরতরে আওয়ামী দোসর জাতীয় পার্টির ওয়াশ আউট হয়েছে। এবং বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে ছিল গৃহপালিত বিরোধী দল। রংপুরবাসী তাদেরকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। জাতীয় পার্টি অনেক কথা বলতো, বাংলাদেশের কোথাও জায়গা না হলে রংপুরে জায়গা হবে। রংপুরবাসী সঠিক বিচার করেছে এবং তাদের জায়গা ঠিক করেছে, ফ্যাসিবাদী কোন শক্তির সাথে তারা আপোস করবে না ইনশাআল্লাহ।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, প্রিয় রংপুরবাসী! বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, এতে সিদ্ধান্ত হবে, যে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাবে না স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে যাবে। যদি স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে যায় তাহলে আমাদেরকে আরেকটি বিপ্লবের জন্য তৈরি হতে হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অনেক ভুল করেছি, আমরা অনেকের প্রতি দয়া দেখিয়েছি, অনেকের প্রতি মায়া দেখিয়েছে, অনেকের প্রতি সহনশীল আচরণ করেছি, ভদ্র ব্যবহার করেছি, আমাদের দুর্বলতাকে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পূর্বে যে ভাষণ সংসদে বাজানোর চেষ্টা করছেন, যদি এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধেও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গত আন্দোলনে আমাদের সাথে যারা শরিক হয়ে এখন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী চালাচ্ছেন, তাদের বলতে চাই, আগামী আন্দোলনে আপনারা আমাদের থেকে দূরে থাকবেন। আন্দোলনের দোহাই দিয়ে আপনাদের কে আমরা আর গ্রিন কার্ড দিতে পারবো না। মন্ত্রী হয়েছেন, চাঁদাবাজের সংজ্ঞায়িত করেছেন, তারা সন্ত্রাসের সাথে সমঝোতা করে, দুর্নীতির সাথেও সমঝোতা করে। ভারতের সাথে সমঝোতা করে, আওয়ামী লীগের সাথেও সমঝোতা করে। এই নব্য সমঝোতাকারীদের আমাদেরকে বয়কট করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









