নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসল ও সবজির বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) মধ্যরাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির প্রবল তাণ্ডব চলে। এতে ৭টি ইউনিয়নের নারী, পুরুষ ও শিশু ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে যায়।
আকস্মিক ঝড়ে গাছ উপড়ে ও ডালপালা সড়কের ওপর পড়ে যান চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হয় পরিবহন চালক, যাত্রীসহ এলাকাবাসী। ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পূর্বধলা সদর, ঘাগড়া ইউনিয়নে একটানা ঝড়ের ও বড় বড় শিলের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছ ও ডালপালা ভেঙে অসংখ্য ঘরবাড়ি চুরমার হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অগণিত দোকানপাট ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন।
ঝড়ে এ এলাকার ঘাগড়া ফয়জুল উলুম স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় ঝড়ে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ভেঙে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অকাল কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে রাতে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে যায় ।এতে লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করে গাছ সরানোর পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিশকাকুনী ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ এলাকার বোর জমিতে ধানের বাড়ন্ত শীষ হঠাৎ বড় বড় শিলার আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন বোর কৃষকরা।
বিশকাকুনী ইউনিয়নের কৃষক জমিররুল ইসলাম বলেন, ‘এ সময় এত বড় কালবৈশাখী সাধারণত হয় না। অকাল ঝড় ও বড় বড় শিলার আঘাতে বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে মুহূর্তের মধ্যে। কৃষকের অনেক কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।এলাকায় বড় অভাব দেখা দিবে। খাবারের অভাবে আমাদের কয়েক মাস কষ্টে কাটাতে হবে।’
ঘাগড়া ইউনিয়নের বাইঞ্চা এলাকার কৃষক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এ সপ্তাহে আসছে ঈদ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুশিতে ঈদ করবো। অন্যের জমিতে শসা, ভুট্টা চাষ করে ছিলাম। ফলনও ভালো হবে আশা ছিল। ঋণ করে, টাকা ধার নিয়ে ফসল চাষ করেছি। এখন সব নষ্ট হওয়াতে কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না।’
এ সম্পর্কে পুর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, অকাল ঝড়ো হাওয়া তার ওপর শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে এ উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকার লোকজন ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে অন্তত ২৯ হেক্টরের বেশি আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বড় বড় শিল পড়ে ধান, ভুট্টা, শসাসহ বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামানের জানান, আকস্মিকভাবে অকাল কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এরপরও কেউ এসে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে আবেদন করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্ৰহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









