বাংলাদেশের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পার্বতীপুরে রেল ইঞ্জিনের ভারি মেরামতের জেনারেল ওভারহোলিং কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল না থাকা সত্ত্বেও ঈদে ৫ রেল ইঞ্জিন আউটটান দিয়েছে। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তা-র্কচারীদের অকান্ত পরিশ্রম করে ৫টি রেল ইঞ্জিনের ভারি মেরামতের (জেনারেল ওভারহোলিং) আউটটার্ন বা উৎপাদন দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ৫টি ইঞ্জিন (লোকেমোটিভ) মেরামতের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিলো।
রবিবার (১৫ মার্চ) ৫টি রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রেল ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরীসহ ইঞ্জিন মেরামতের জন্য কারখানাটিতে মেকানিক্যাল (কারিগরি) সেকশনে মঞ্জুরীপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বরাদ্দ রয়েছে ৫৫৯। কর্মরত আছে ১৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রতিমাসে ১/২জন করে অবসরে যাচ্ছেন। বাজেট ও জনবল স্বল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কারখানটির আউটটার্ন ধরে রাখতে হচ্ছে। ভারি মেরামত করে আউটটার্ন করা হয়েছে গত জুন থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ১৬টি। এরমধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর পড়ে থাকা কয়েকটি অকেজো ভারি রেল ইঞ্জিন মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। ১৯৭৮ সালের ৪৮ বছরের পুরনো একটি ইঞ্জিন ভারি মেরামত করে ঈদ যাত্রায় রেলবহরে যুক্ত করা হয়।
কারখানা সুত্র জানিয়েছে, একটি রেল ইঞ্জিনে ৩৪ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ রয়েছে। এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি রেল ইঞ্জিনকে ৬ বছর পরপর জেনারেল ওভারহোলিংয়ে (জিওএইচ) জন্য পার্বতীপুরে কেলোকায় পাঠানো হয়। ক্রটিপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো পরিবর্তন করে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও অকেজো অংশ মেরামত করে সচল করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়েতে রেল ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৪টি (ব্রডগেজ ১০৮, মিটারগেজ ১৮৬)। ইতোমধ্যে ১৫০টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ৬০টি ও মিটারগেজ ৮০টি। রেল বহরে ৬৭ বছর পুরনো ৮টি মিটারগেজ রেল ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে নতুন করে ৪৮ বছরের আরও একটি রেল ইঞ্জিন যুক্ত হলো রেল বহরে।
১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জিওএইচ করে কার্যক্রম করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।
পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, কারখানায় বাজেট ও স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়েই অকান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৬ রেল ইঞ্জিনের আউটটার্ন দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট স্বল্পতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৭৮ সালের ৪৮ বছরের পুরনো একটি ইঞ্জিন ভারি মেরামত করে ঈদ যাত্রায় রেলবহরে যুক্ত করা হয়। ঈদ উপলক্ষে ৫টি ইঞ্জিন (লোকেমোটিভ) মেরামতের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিলো। আজ (১৫ মার্চ) ৫টি লোকোমোটিভ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছর রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের (জেনারেল ওভারহোলিং) লক্ষ্যমাত্রা ৩০টি। কিন্তু ভারী মেরামত শেষে আউটটার্ন করা হয়েছে ১৮থেকে ২০টি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









