সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঈশ্বরদীতে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জি পাড়ায়

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ঈশ্বরদীতে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জি পাড়ায়

দিন যত যাচ্ছে ততই ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিনক্ষণ। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই সন্নিকটের ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে থান কাপড় ও দর্জির দোকান গুলোতে। পছন্দের নতুন কাপড়ের পোশাক তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দর্জি শ্রমিক ও মালিকরা। আগের তুলনায় কাপড়ের দাম ও দর্জির মজুরি বাড়ায় কিছুটা অস্বস্তি হলেও ঈদের দিন নতুন পোষাক চাই বলেই সকল প্রতিকুলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুরি দেখিয়ে ক্রেতা আর বিক্রেতায় ভরপুর এখন পোষাক ও থান কাপড়ের দোকান গুলো। 

ঈশ্বরদী উপজেলা শহরের কাপড়ের মার্কেট গুলোর পাশা পাশি এখন জমজমাট সব দর্জি দোকান। গত কয়েকদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও দোকান ঘুরে দোকানিদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মত। 

ঈশ্বরদী শহরের আব্বাস মার্কেট, ঈশ্বরদী পুরাতন বাজার, গোপাল সুপার মার্কেট, মনির প্লাজা, জাকের সুপার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট গুলোর একেকটি ফ্লোর জুরে রয়েছে ছোটবড় একাধিক সেলাই মেশিনের দোকান বা টেইলার্স। দোকান গুলোতে খদ্দেরদের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন টেইলার্স মাস্টাররা। অন্যদিকে পোশাক শ্রমিকদের সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজে মুখরিত চারিদিকে। কাজের ব্যস্ততায় বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দই বলছে, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।

শবে বরাতের পর থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পোশাক তৈরির চাপ। ঈদ উপলক্ষে দর্জির দোকানগুলোয় ২০-২৫ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেবে বলে জানালেন মালিকরা।

গোপাল সুপার মার্কেটের টেইলর রানু, সুজন, ফজলুসহ কয়েকজন টেইলার্স মালিক জানান, পছন্দের পোশাকের জন্য রেডিমেড থ্রিপিস ও থানকাপড় কিনে ক্রেতারা পাড়ি জমাচ্ছেন দর্জি দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের পছন্দ মতো পোশাক বানাতে দিনরাত দোকান খোলা রেখে কাজ করছেন দর্জিরাও। আবার কোনো কোনো টেইলার্স কাজের চাপ সামলাতে মৌসুমি কারিগর এনেছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে।

দাশুড়িয়া বাজারের বিসমিল্লাহ টেইলার্সের মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, গতবারের মতো এবারও অর্ডার বেশি। ঈদের এই সময়টায় অর্ডার বেশি আসে। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে খাওয়া-ঘুমের সময় পাচ্ছি না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ এবং জামা-কাপড় ডেলিভারি করি। সবকিছুর দাম বাড়তি, সেই রেশ পড়ে মজুরিতেও।
দাশুড়িয়া বাজারের রিয়াদ ট্রেইলার্সের মহাজন জালাল উদ্দিন বলেন, এবছর সিট কাপড়সহ তৈরী পোশাকের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও তূলনা মূলক ক্রেতা কম।

সেলাই মেশিন কর্মী আশিকুল ইসলাম বলেন,ঈদ আসলে দোকানে বেঁচা বিক্রি বাড়ে। এতে মালিকের ভাগ্যের চাকা ঘুড়লেও অপরিবর্তিত থেকে যায় সেলাই মেশিন কর্মীদের ভাগ্য।

সেলাই কারিগর মো. সবুজ বলেন, ঈদের আগে মহাজন কাজের দর বাড়ালেও আমাদের বেতন বাড়েনা। তাই কম বেতনে বাড়তি কাজ করতে হয় আমাদের। রাত জেগে কাজ করেও আমদের ন্যূনতম প্রাপ্যতা টুকু আমরা পাইনা। 

লাকি ট্রেইলার্সেন মহাজন,  আতিকুল ইসলাম বলেন, সারাবছর তেমন বেচা কেনা থাকে না। কিন্তু ঈদের আগে বাড়তি কাজের জন্য সিজনাল কর্মী নিয়োগ দিতে হয়। তাই তাদের বাড়তি টাকার জন্য কাজের মূল্য অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশীই নিতে হয়। 

বাজারে কাপড় কিনতে আসা মোছা: রাবেয়া সুলতানা ও মোছা: লাবনি আক্তাররা অভিযোগ করে বলেন , তূলনা মূলক জামা কাপড়ের দাম না বাড়লেও বেড়েছে তৈরীর মুজুরির দাম। তাই আমরা বেশী মজুরি এড়াতে রেডিমেড পোশাকেই ভরসা রাখছি।

ঈশ্বরদী বাজারের মিশুক বস্ত্রালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী আজিম হোসেন বলেন, গতবারের তুলনায় এবার কাপড়ের কোয়ালিটি বেড়েছে। গত বারের নেটের পরিবর্তে এবার কয়েক প্রকারের কাপড় এসেছে। তাই খদ্দেররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সংগ্রহ করছে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দে।

ঈশ্বরদী টেইলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার পিন্টু জানান, গত বছরের ঈদ গুলোর চেয়ে এবছর কাজের চাপ অনেকটাই বেশী। তবে কাজের চাপ বেশী হলেও আমরা মজুরী বৃদ্ধি করিনাই। সেই লক্ষে কারিগরদের বেতন ও বাড়ানো হয়নি।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.