নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের উৎরাইল এলাকায় খাল ও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে অন্তত ৩৫টি অবৈধ দোকানপাট ও পাকা-আধাপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানে ভারী এস্কেভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে রাস্তার পাশ এবং খালের ওপর গড়ে ওঠা কংক্রিট ও টিনশেডের দোকানগুলো ভেঙে ফেলা হয়। মুহূর্তেই ভাঙা ইট, সুরকি, সাইনবোর্ড ও পিলারের স্তূপে পরিণত হয় দীর্ঘদিনের অবৈধ স্থাপনাগুলো।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
অভিযানে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্রসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং দুর্গাপুর থানা পুলিশের সদস্যরা।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সওজের জমি ও খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এতে একদিকে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, অন্যদিকে সড়কের সৌন্দর্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছিল।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৫টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্র বলেন, “সওজের বেদখল হওয়া জায়গাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, খাল ও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত হলে এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরবে এবং যানজটসহ নানা নাগরিক ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









