শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মালতের দাফন রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জেলা পুলিশের টিম না পৌঁছানোয় সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের মোল্যা কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম মালত ডিএমখালি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুর রহমান মালতের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোববার ঢাকার কাকরাইল এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও জেলা পুলিশ সময়মতো না পৌঁছানোয় দাফন বিলম্বিত হয়। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর মরদেহে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে পরিবার দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ আজ একজন সহযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা থেকে বঞ্চিত হলেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
মৃতের ছেলে মাসুম মালত জানান, “আমরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। কিন্তু পুলিশের টিম না আসায় বাধ্য হয়ে গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বি বলেন, তিনি ও সখিপুর থানার ওসি উপস্থিত থেকে সম্মাননা প্রদান করেন। পরে মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, কোনো মুক্তিযোদ্ধার দাফনে গার্ড অব অনার প্রদানে অবহেলা করা হয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









