যশোরে এক ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীকে বেআইনিভাবে দোকান থেকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কুদ্দুস (৫২)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর রোড এলাকার বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে শহরের আর.এন. রোড চৌরাস্তা এলাকায় এ.এম.এফ রহমান (খোকা) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পজিশন চুক্তির মাধ্যমে দুটি দোকানঘর ক্রয় করে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে তিনি ওই দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
কুদ্দুস অভিযোগ করেন, ২০০৭ সালে দোকানঘরটির মালিকানা এ.কে.এম খয়রাত হোসেনের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর থেকেই তাকে উচ্ছেদের নানা চেষ্টা শুরু হয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দোকান থেকে সরিয়ে দিতে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তাকে দোকান ছাড়তে বাধ্য করতে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি দোকানের ওপর দিয়ে টয়লেটের পাইপ স্থাপন করে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে এবং তার ছোট ভাইকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সর্বশেষ গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিদ্যুৎ অফিসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে তার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অথচ তার বিদ্যুৎ বিলের কোনো বকেয়া নেই। তারপরও বাড়িওয়ালার চাপের কারণে বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুদ্দুস বলেন, আমি পজিশন চুক্তিতে দোকান কিনে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে ভাড়া পরিশোধ করে ব্যবসা করছি। কিন্তু কোনো বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবসার আয়েই আমার পরিবারের ১৬-১৭ জন সদস্যের জীবিকা নির্বাহ হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় আমি ব্যবসায়িকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি এবং মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি।
তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তিনামা অনুযায়ী বাড়িওয়ালার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কোনো আইনি অধিকার নেই। তাই এই হয়রানি বন্ধ করে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই হাফিজুর রহমান, জিয়াউল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম, ভাবী মুসলিমা খাতুন, শিরিনা খাতুন, নাহিদা আক্তার মুক্তি এবং ছেলে আব্দুর রিফাতসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এসময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









