বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে মঙ্গলবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ধোঁয়া ও আতঙ্কে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রাত প্রায় ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় পঞ্চম তলার একটি কর্নারে।
রাতের নীরবতা ভেঙে প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ধোঁয়ার গন্ধ। এরপরই শুরু হয় চিৎকার “আগুন! আগুন!”। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। রোগী, স্বজন, নার্স ও চিকিৎসকরা জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে রোগীদের নিচে নামাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেডিসিন ওয়ার্ডের এক পাশে রোগীদের জন্য রাখা ফোম, চাদর ও বালিশে আগুন লাগে। আগুন বড় আকার ধারণ না করলেও ঘন ধোঁয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ধোঁয়ার কারণে আগুনের উৎস শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। মারা যান দুই রোগী পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল সদরের বারৈজ্যের হাটখোলা এলাকার আবুল হোসেন (৬৭)।
নিহত কাজী আতাউর রহমানের স্বজনদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুনের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হয় এবং দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা না পাওয়ায় তার মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, আগুনের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত দুই রোগীর শারীরিক অবস্থা আগেই আশঙ্কাজনক ছিল।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি অংশে আগুন লাগে। দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ধোঁয়ার তীব্রতার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা সময় লাগে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিড়ি-সিগারেটের আগুন অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে চারজন আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, আগুন লাগার সময় ওই ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আগুনের ক্ষতি সীমিত থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি সাড়া এবং রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাতের সেই আতঙ্ক কাটলেও দুই প্রাণহানিতে ভারী হয়ে আছে হাসপাতালের পরিবেশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









