ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ফুটপাত। ক্রমবর্ধমান দামের বাজারে যখন শপিংমল অনেকের নাগালের বাইরে, তখন ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোই যেন হয়ে উঠেছে স্বল্প আয়ের মানুষের ঈদের শেষ আশ্রয়।
রাজধানীর ঘেঁষা শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ঈদ ঘিরে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শ্রমিক, যারা বছরের অধিকাংশ সময় পরিবার থেকে দূরে কাটান, তারা ইতোমধ্যে নাড়ির টানে বাড়ির পথে। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে সাধ্যের মধ্যে যা সম্ভব, তা নিয়েই তাদের এই ছুটে চলা।
এই বাস্তবতায় ফুটপাতই হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাজার। ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক অস্থায়ী দোকানে উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের রঙিন পোশাক, সুতি থ্রি-পিস, জিন্স প্যান্ট, শার্ট সবই মিলছে তুলনামূলক কম দামে। মানে খুব একটা ছাড় না থাকলেও দামের কারণে স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।
গাউছিয়া মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, রমজানের শুরুতে বেচাকেনা ধীরগতির থাকলেও শেষ দশকে এসে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। আরেক বিক্রেতা শফিকুর রহমান বলেন, ইফতারের পর থেকেই জমে ওঠে আসল বেচাকেনা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
ফুটপাতের কেনাকাটার আলাদা আকর্ষণ দর কষাকষি। বিক্রেতা-ক্রেতার ‘কথার লড়াই’ শেষে নিজের সাধ্যের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দামে পণ্য কিনে হাসিমুখে ফিরছেন মানুষ। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, বেল্ট, মানিব্যাগ ও প্রসাধনীর দোকানেও সমান ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মহসিন আলী বলেন, সারাদিন রোদে পুড়ে ব্যবসা করি, কিন্তু ঈদের আগে এই কয়েকদিন ভালো বিক্রি হলে সব কষ্ট ভুলে যাই।
অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক বেগম রোকেয়া জানান, “দাম কিছুটা বেশি লাগলেও ফুটপাতেই নিজের সামর্থ্যের মধ্যে সুন্দর পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এই বেচাকেনার চাপে সড়কে বাড়ছে যানজট, ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের চলাচল। হকার উচ্ছেদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও বাস্তবতা ভিন্ন চাহিদার টানে আবারও বসছে দোকান, জমছে ভিড়। একদিকে শৃঙ্খলার প্রশ্ন, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-সংগ্রাম এই দ্বৈত বাস্তবতায় ফুটপাত যেন হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার অনিবার্য সমাধান।
এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। পকেটমার ও ছিনতাই প্রতিরোধে জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম।
সবকিছু মিলিয়ে, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ মানেই এখন হিসাব করে খরচ, আর সেই হিসাবের ভেতরেই ফুটপাতই তাদের শেষ ভরসা যেখান থেকে কিনে নেওয়া সামান্য উপহারেই জেগে ওঠে স্বজনদের মুখের অমূল্য হাসি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









