রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার মনিরাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুবসমাজের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে গাছ লাগানো ও পাকা বেদি নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হোসেন বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত খেলাধুলা করতে না পারায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোকসেদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘‘মাঠের সমস্যার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও ভালো নয়। অনেক ফ্যান নষ্ট থাকায় গরমে ক্লাস করতে কষ্ট হয়। বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে।’’
শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘‘ভোকেশনাল শাখায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ল্যাপটপ থাকলেও ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। হোয়াইট বোর্ডে লেখার মার্কার পর্যন্ত অনেক সময় নিজেদের টাকা দিয়ে কিনতে হয়।’’
মানববন্ধনে স্থানীয় যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘‘এই মাঠটি শুধু বিদ্যালয়ের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদেরও একমাত্র খেলার জায়গা। মাঠ বন্ধ থাকায় যুবসমাজ সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’’
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে ইংরেজি ক্লাস অনিয়মিত, টয়লেটের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, পুরোনো টিনশেড ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত সমাবেশ ও জাতীয় দিবস যথাযথভাবে পালন করা হয় না বলেও তারা দাবি করেন।
সাবেক শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‘‘আগে আমরা নিয়মিত এই মাঠে খেলতাম। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্থানীয় যুবসমাজকে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ ২৪ মার্চ ২০২৬ খেলাধুলা বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। সেটিও কার্যকর করা হয়নি।’’
স্মারকলিপিতে খেলার মাঠ দ্রুত উন্মুক্ত করা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









