১৯৯তম ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের জামাত ঘিরে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে শোলাকিয়া মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ ব্রিফিং এ তথ্য জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন এবং র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান।
সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান দেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ ঈদগাহগুলোর একটি। প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করেন। এ ধারাবাহিকতায় এবার ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন। তাঁদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা জেলা প্রশাসন করে থাকে। এবারও সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি, কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। ঈদের জামাত শেষে উভয় ট্রেন দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।’
জেলা প্রশাসক জানান, আগত মুসল্লিদের আবাসন ও অজুর জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অস্থায়ী অজুখানাও স্থাপন করা হয়েছে। থাকবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এ ছাড়া সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মাঠে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিরা মাঠে কেবল জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ব্যাগ, ছাতা বা অন্য কোনো সামগ্রী বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ১ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৬টি র্যাব টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি ও ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬টি ওয়াচ টাওয়ারের আওতায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে ডিবি, র্যাব এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করে মুসল্লিদের প্রবেশ করানো হবে।
র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান বলেন, চেকপোস্ট ও মোবাইল টহলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কেও টহল টিম নিয়োজিত রয়েছে। স্নাইপার, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









