ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা ও সাজানো নাশকতার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরীহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শহরের একটি ফ্যামিলি জোন কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দাবি জানান তারা।
দাবিগুলো হলো- সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা, গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহে সংঘটিত তিনটি পৃথক ঘটনা—একটি হত্যাকাণ্ড, একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর এবং একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ—জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিকল্পিতভাবে নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও আস্থাহীনতা তৈরি করছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্যসচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক রাসেল হুসাইনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









