পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে যখন চারপাশ মুখর থাকার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে বাগেরহাটের কচুয়া বাজারে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক বিপর্যয়। শুক্রবার ভোর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ৮টিরও বেশি দোকান। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া অংশের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের পাহারাদার আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে দোকানগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল সেলুন, লন্ড্রি, বড় মুদি দোকান, চায়ের দোকান, সার ও কীটনাশকের দোকান, ভ্যারাইটিজ স্টোর এবং মিষ্টি তৈরির জালঘর। ঈদকে সামনে রেখে দোকানগুলোতে প্রচুর মালামাল মজুদ ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সারের ডিলার ‘মীম এ্যান্ড মুন’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের দোকান, লন্ড্রি, সেলুন ও চায়ের দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, সব হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। অনেকের পক্ষে নতুন করে ব্যবসা শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনার পরপরই বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা জালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে ত্রাণ তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আরও সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









