গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা ও অনিয়মের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে পৌর শহরের ঝিলপাড়ায় নওরোজ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার মন্ডল জানান, তিনি ভিজিএফ চাল বিতরণ যাচাই-বাছাই কমিটির একজন সদস্য। সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল, ইউপি সচিব, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিক্রমে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করে গত ১৭ মার্চ সবার উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়। পরের দিন ১৮ মার্চ ইউপি সচিব ও ট্যাগ অফিসার ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেই ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় তালিকাভুক্ত কিছু সুবিধাভোগী চাল না পাওয়ায় আবু তালেব মন্ডলকে বললে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হট্টগোল হলে জনগণ মারমুখী আচরণ করে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অথচ এ ঘটনায় তাকে ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা প্রদানের জন্য দায়ী করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃত পক্ষে সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। বিগত সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সাথে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুমি বেগম একজন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তারা দুইজন মিলে বিএনপি দল ও বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে। সাপমারা ইউনিয়নে কার্ডধারীরা চাল পাচ্ছে না জেনে গত ১৯ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদে খবর নিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডলের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দোষারোপ করে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্ত ২০০ থেকে ২৫০ জন সুবিধাভোগীকে ভিজিএফ চাল না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেই চাল নিজেই আত্মসাৎ করেছে। এই চাল চুরির বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিচার দাবী করছেন ওই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। অথচ তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য আবু তালেব সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসলে রিলিফ তদারকি বা বাধা দেওয়ার কাজে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। সেই সাথে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য নির্ভর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মিনহাজ শেখ, ওয়েছ কুরনী, আব্দুর রাজ্জাক আলী মন্ডল, মেজবাউল ইসলাম, জোসনা বেগম, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মতলেব শেখ, আমিরুল ইসলাম, শাহ আলম মন্ডল, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কার্ডধারী ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ, ছবি রানী, মজিদসহ অসংখ্য চাল না পাওয়া পরিবারের লোকজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









