আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৬ বছরে যদি নির্যাতিত পরিবারের তালিকা করা হয় সেই তালিকায় এক নম্বরে থাকবে জিয়া পরিবার। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিতদের প্রতিচ্ছবি। জিয়া পরিবারের চেয়ে নির্যাতিত বাংলাদেশে কেউ ছিল না।’
রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রয়াত ছয় শিক্ষকের শোক ও স্মরণসভা এবং স্মরণিকা ‘কীর্তিমান’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রয়াত ছয় শিক্ষকের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ‘শৈলকুপা নাগরিক কমিটি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আহত করে ওয়ান ইলেভেনের সময় পঙ্গু করা হয়েছিল। তার মাকে বন্দী করা হয়েছিল। তার ভাই বিদেশে মারা গেছেন। জিয়া পরিবারের চেয়ে নির্যাতিত বাংলাদেশে কেউ ছিল না। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি ১৭ মিনিট বক্তৃতা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত তার বক্তব্যে কোনও হিংসার আগুন জ্বলেনি। প্রতিশোধের নেশায় উনি মত্ত হননি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু স্বাভাবিক বাংলাদেশ চাই। আইনের শাসনের বাংলাদেশ চাই, ন্যায়পরায়ণতার বাংলাদেশ চাই, উন্নয়নের বাংলাদেশ চাই।'
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেকের হাতের আঙুলে ভোটের কালি এখনো মুছে যায়নি। সেই কালি মোছার আগেই নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার অধিকাংশ পূরণের পথে আমরা এগিয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। আমরা আমাদের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে রেজুল্যশন নিয়েছি বাংলাদেশের ১১ লাখর উপরে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছি, যার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আলহামদুলিল্লাহ এটা আমরা করে ফেলেছি অলরেডি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করব পর্যায়ক্রমে। আমরা ইতিমধ্যে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছি। আগামী বাজেটের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারব বলে আশা করি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বলেছিলাম খাল খনন কর্মসূচি পালন করব। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী খাল খনন করে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। ১৬ মার্চ থেকে এই খাল খনন কার্যক্রম আমরা চালু করেছি।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবকদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করব। কারণ একজন মসজিদের ইমাম যখন ইমামতি করেন তার মাসিক বেতন চাল তোলাতুলি করে দিতে হয়। আমরা সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইমামদের জন্য যে ব্যবস্থা ওটা চালু করেছি। এসবই আমাদের সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি।’
শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত এবং প্রয়াত ছয়জন শিক্ষক-অধ্যাপক আলিম উদ্দীন, অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন, অধ্যাপক মসহাব উদ্দিন, অধ্যাপক লক্ষ্মীকান্ত দাস, অধ্যাপক মুন্সি আব্দুল ওয়াদুদ ও অধ্যাপক সদর উদ্দীন শিকদারের মৃত্যুতে শোক ও স্মরণসভা এবং স্মরণিকা প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শৈলকুপা নাগরিক কমিটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শৈলকুপা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন। পরিচালনা করেন সদস্যসচিব ফিরোজ খান নুন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শৈলকুপা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, শৈলকুপা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মজিদ, আবেদ আলী, সদর উদ্দীন, বিমল সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









