বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঈদের খুশি এখন ফুচকার প্লেটে

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

ঈদের খুশি এখন ফুচকার প্লেটে

বিনোদন পার্কের অভাবে সৈয়দপুরে ফুচকা-চটপটির দোকানে ঈদের ভিড়

ঈদ মানেই আনন্দ, ঘোরাঘুরি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। দেশের বড় বড় শহরে যখন মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন আধুনিক বিনোদন পার্কগুলোতে, তখন ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে। এখানে নেই আধুনিক কোনো পার্ক, তবু থেমে নেই উৎসবের আনন্দ। সেই আনন্দ এখন ছড়িয়ে পড়েছে শহরের ফুচকা-চটপটির দোকানগুলোকে ঘিরে।

ঈদের দিন বিকেল থেকেই সৈয়দপুরের বিভিন্ন স্থানে জমে ওঠে ছোট ছোট ‘স্বাদের মেলা’। বিশেষ করে সৈয়দপুর প্লাজা এলাকা যেন পরিণত হয় এক ভিন্নধর্মী মিলনমেলায়। ফুচকা আর চটপটির দোকানগুলোর সামনে উপচে পড়া ভিড় যেখানে পা ফেলারও জায়গা থাকে না। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, আবার কেউ অপেক্ষায় কখন একটা সিট খালি হবে!

নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে এই দোকানগুলোই যেন হয়ে উঠেছে ঈদের প্রধান আকর্ষণ।

সৈয়দপুর প্লাজায় পরিবার নিয়ে আসা মনোয়ার হোসেন (৪৫) বলেন, আমাদের এখানে ভালো কোনো বিনোদন পার্ক নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোতেও তেমন সুবিধা নেই। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে চলে আসলাম। কিন্তু এত ভিড় যে এখনো বসার সুযোগ পাইনি।

শুধু প্লাজা নয়, শহরের পোস্ট অফিস মোড়, ক্যান্টনমেন্ট বাজারের সিএসডি মোড়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন ফাইভ স্টার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব ফুচকা-চটপটির দোকান। কোথাও স্থায়ী, কোথাও আবার ভ্রাম্যমাণ তবু প্রতিটিতেই ক্রেতাদের ঢল।

৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্বাদের ফুচকা ও চটপটি। ঝাল-মিষ্টি-মসলায় তৈরি এই খাবারগুলো যেন ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ।

খুলনা থেকে মামার বাড়ি সৈয়দপুরে ঈদ করতে আসা কলেজছাত্রী সিনথিয়া বলেন, ‘সৈয়দপুরের ফুচকা-চটপটির স্বাদ আলাদা। বিশেষ করে এখানে বিহারী ভাইদের হাতে বানানো ফুচকার টেস্ট অসাধারণ অন্য কোথাও এমন পাইনি।’

এদিকে দোকানিদেরও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। সৈয়দপুর প্লাজার ‘মনচুরি চটপটি ও ফুচকা হাউস’-এর মালিক সামশাদ জানান, ‘ঈদের দিন দুপুর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেককে অপেক্ষা করাতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এই কয়েকদিনে রমজান মাসের চেয়েও বেশি বেচাকেনা হবে।’

শুধু পরিবার নয় বন্ধুদের আড্ডা, প্রেমিক-প্রেমিকার সময় কাটানো সব মিলিয়ে এই দোকানগুলোই এখন সৈয়দপুরবাসীর ঈদ আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ খাচ্ছেন, কেউ ঘুরছেন, কেউবা শুধু ভিড়ের আনন্দটুকু উপভোগ করছেন।

শহরের ইসলামবাগ থেকে দলবেধে ফুচকা চটপটি খেতে এসেছেন সাম্মি, আফসানা, মিথিলা, তাবাসসুমসহ আরও কয়েকজন। তারা বলেন, শহরে পার্ক নেই। যে দুটি নামকাওয়াস্তে আছে সেখানে হাটার পরিবেশ নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে যাওয়া যায় না। তাই সন্ধ্যার পর এই ফুচকার স্বাধ নিতে আসলাম। এটাই আমাদের ঈদের আনন্দ।

বিনোদন পার্কের অভাব থাকলেও, স্বাদের এই ছোট ছোট আয়োজনই যেন প্রমাণ করে আনন্দের জন্য বড় আয়োজন নয়, দরকার শুধু মানুষ আর একটু ভালো লাগা।

নওশাদ/সৈয়দপুর/অই

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.