গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্বামীর কাছে ২০ টাকা চেয়ে না পাওয়ায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লিজা খাতুন (১৭) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চক গোবিন্দ (গোহাটিপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিজা খাতুন গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার চাষকপাড়া এলাকার খট্রু শেখের মেয়ে। স্বামীর সাথে ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, নয় মাস আগে লিজা খাতুনকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। কিন্তু পরকীয়া প্রেমের টানে আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই মাস আগে বাঁধনকে বিয়ে করে লিজা। বিয়ের পর রাজমিস্ত্রী বাঁধন তার স্ত্রীকে নিয়ে গোহাটিপাড়ায় রফিকুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া নেন। আজ সোমবার লিজা স্বামীর কাছে ২০ টাকা চাইলে বাঁধন তাকে সেই টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাঁধন তাকে একটি চড় মেরে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজে চলে যান। দুপুরে লিজার ছোট ভাই দুলাল বোনের সাথে দেখা করতে আসলে বাড়ির ভেতর থেকে দরজা আটকানো এবং ডেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, বেঁড়ার উপর দিয়ে ভেতরে গিয়ে দরজা খুলে ঘরের ভিতরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পায়। তখন ঘটনাটি শুনে পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। পরে দুলাল বাঁধনকে বাড়িতে ডেকে এনে লিজাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
দুলাল বলেন, আমি সকালে এসে আপার কাছে ভাত চেয়েছিলাম কিন্তু বাড়িতে ভাত না থাকায় আপা বলেছিল, তুই আর এক সময় এসে খাস। পরে আমি ভাত খেয়ে দুপুরে ফিরে এসে দেখি আপা আত্নহত্যা করেছে।
লিজার মা বলেন, আমার মেয়েকে অন্যখানে বিয়ে দিয়েছিলাম। সেখানে সুখেই ছিল কিন্তু বাঁধনের কারণে সেই সংসার টিকলো না। ভালোবেসে বিয়ে করে আজ তাকে লাশ হতে হলো। ওই বাঁধনই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









